বুধবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০১১

কী বোকা আমি, তাই না!

তোমার উচ্ছল হাসির নীচে লুকিয়ে থাকে
পাথর-চাপা কষ্টেরা,
অথচ কী আশ্‌চর্য, দ্যাখো-
ফুটন্ত ফুলটি দেখে ঝরে যাওয়ার বেদনা ভুলেই ছিলাম।
কী বোকা আমি, তাই না!

রোদ রোদ্দুর হাওয়াই মিঠে তোমার কন্ঠে ভীরু পাখির
গানের, নাকি দুরুদুরু বুকের কাঁপন,
ভিজে ওঠা চোখের পাতায় প্রবল শীতের সন্ধ্যা নামে
আমি ভাবি, ওটাই সুখ, সুখের ছবি!
ওকি! কাছে টেনে নিচ্ছো?
অবাক করলে!

ঝর্ণার নাচ তোমার হাতের আঙ্গুলে,
আমার বুকেও কাঁপন তোলে
মাতি জয়োল্লাসে
আর ঝর্ণা আমার চোখটি বুঁজে ভেবে চলে
তার রঙ্গীণ রামধণু আর ফেণাভ হাসির উৎসটি সেই আগের মতই আছে।
তোমাকে বাস্তবতা শেখাই
আর চম্পাদলে রক্তরেখা এঁকেই চলি।

তোমার চোখে জল দেখেছিলাম,
ভেবেছিলাম জলের
অন্য একটি
মানে আছে।
সেই জলকে জানতে চেয়ে
ক্ষণিক পূজোর পালার শেষে-
তোমার ঘ্রাণটি বুকে ভরে
গিয়েছিলাম অচিনপুর।
ফিরে দেখি
জলও নেই।
ছায়াও নেই।

..... কালকূট এর কবিতা..............

সর্বহারা.....................

ব্যথার সাঁতার-পানি-ঘেরা
চোরাবালির চর,
ওরে পাগল!কে বেঁধেছিস
সেই চরে তোর ঘর?
শূন্যে তরিৎ দেয় ইশারা,
...হাট তুলে দে সর্বহারা,
মেঘ-জননীর অশ্রুধারা
ঝরছে মাথার'পর,
দাঁড়িয়ে দূরে ডাকছে মাটি
দুলিয়ে তরু-কর।।


*** কাজী নজরুল ইসলাম ***

মঙ্গলবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০১১

ভাষা....

কবির ভাষা কবিতা  আর
পাখির ভাষা সুর ।
আমার ভাষা থাক অজানা ,
অনেক অনেক দূর.................!

কাপঁতে থাকে পাওয়ার ছোট ইচ্ছেগুলি !......................

যতই ঘনিয়ে আসে তিমিরের রাত
গুরু গুরু মেঘের ডাকে-
কাঁপতে থাকে কাঠাঁলচাপার ফুলগুলি ।
আমি ততই কাছাকাছি আসি ;
মননের গানে-
...সুর ভুলা সুরতহালে কাটতে থাকে
বিলাসী প্রহর ।

বর্ণহীন বেদনায় করজোড়ে
কাপঁতে থাকে পাওয়ার ছোট ইচ্ছেগুলি !
তুমি বুঝনা, আর বুঝবেও না ;
কি এমন কলরবে তুমুল কাঁপে
বিদীর্ণ মন,

মনের প্রতিটা বেলকোনীতে............

আঁধারের সুন্দর একটা রুপ আছে
আছে গভিরতা,
আছে অর্থ,
আমার কাছে এই সুন্দর
রুপ,গভিরতা, অর্থ
...এর সবটাই বন্ধু তুমি।

আমি তোমাকে ভাবি জোছনা রাতে
আমি তোমাকে খুজি ঝোনাকির আলোয়,
ফুরের কাছে যার গন্ধ খুজে বেড়াই
সেওতো বন্ধু তুমি।

আকাশের নীল রংয়ে
মনের তুলি দিয়ে,
আমিতো তোমার ছবিই একেছি।
মনের প্রতিটা বেলকোনীতে
যার আসা যাওয়া
সেওতো বন্ধু তুমি।

কবি কে...........................????????



তিনিই কবি যিনি কবিতা লেখেন
...আবার তিনিও কবি যিনি পদ্যটদ্য লেখেন না।

তিনিই আসলে কবি যিনি পায়ের বেড়ি খুলে ছুঁড়ে ফেলে দেন
আবার তিনিও কবি যিনি এই শৃঙ্খলে আবদ্ধ হতে ভালোবাসেন

কবিকে আসলে বিশ্বাসী হতে হয়
তিনিও কবি যার কোনো কিছুতে বিশ্বাস নেই

কবি আসলে এমন মানুষ যাকে মিথ্যে কথা বলতে হয়
আবার তিনিও কবি যাকে বলা হয়েছে অনেক মিথ্যে কথা

তিনিই হলেন কবি যিনি টাল খেয়ে ভেঙে পড়েন
আবার তিনিও কবি যিনি উদ্ধত ভঙ্গিতে উঠে দাঁড়ান

কবি তিনিই যাকে সবকিছু ছেড়েছুড়ে ফেলে দিতে হয়
আবার তিনিও কবি যিনি কোনো কিছুই ছেড়ে চলে যান না।

>>>>>>  তাদেউজ রজেভিচ

 

 

 

 

বিশ্বযুদ্ধোত্তর কালের
সবচেয়ে প্রভাবশালী পোলিশ কবি তাদেউজ রজেভিচ (জন্ম ১৯২১)। প্রতীক, উপমা,
শব্দব্যবহারের অভূতপূর্ব কলাপ্রকৌশলে পোলান্ডের কবিতার তথাকথিত
...লিরিকময়তাকে একেবারে বদলে দিয়েছেন তিনি। খুবই শক্তিশালী, অন্তর্ভেদী তার
দৃষ্টি আর উপস্থাপনা। তিনি বলেছেন, “কবিতার তথাকথিত ছন্দোস্পন্দের বিষয়টি
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসিদের বন্দিশিবির সৃষ্টির মধ্য দিয়েই শেষ
হয়ে গেছে।” যুদ্ধের বীভৎসতা, নির্যাতন আর যুদ্ধপরবর্তী সময়ের সংকট ও
অপ্রাপ্তিকে তিনি তার কবিতার বিষয় করে তুলেছেন। রজেভিচকে মনে করা হয়
যুদ্ধোত্তর পোলিশ কবিতার অন্যতম প্রধান কবি। তবে শুধু কবি নন, তিনি পোলিশ
ভাষার একজন গুরুত্বপূর্ণ নাট্যকার, সমালোচক ও ছোটগল্পের রচয়িতা।

 

স্ববিরোধী...........................।।



আমি জন্মেছিলাম এক বিষন্ন বর্ষায়,
কিন্তু আমার প্রিয় ঋতু বসন্ত।
...আমি জন্মেছিলাম এক বৃষ্টিভরা আষাঢ় সকালে,
কিন্তু আমি ভালবাসি চৈত্রের সন্ধ্যা।
আমি জন্মেছিলাম দিনের শুরুতে,
কিন্তু আমি ভালবাসি নির্জন মধ্যরাত।
আমি জন্মেছিলাম ছায়াসুনিবিড় এক গন্ডগ্রামে,
কিন্তু আমি ভালবাসি বৃক্ষহীন রৌদ্রদগ্ধ ঢাকা।
জন্মের সময় আমি খুব কেঁদেছিলাম,
এখন আমার খুব হাসি পায়।
আমি জন্মের প্রয়োজনে ছোট হয়েছিলাম,
এখন মৃত্যুর প্রয়োজনে বড় হচ্ছি।


>>>> নির্মলেন্দু গুণ